ঢাকায় আঞ্চলিক পর্যটন সংযোগ বৃদ্ধিতে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF) ২০২৬ শুরু হয়েছে। মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আঞ্চলিক পর্যটন সংযোগ বৃদ্ধি ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলা রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB)-এ উদ্বোধন করা হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন অবকাঠামো, সেবা, গন্তব্য ও পর্যটন পণ্য উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যগুলোকে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের প্রতিপাদ্য ‘Connecting Regional Tourism’। আয়োজকদের মতে, এ মেলা শুধু পর্যটন পণ্য ও গন্তব্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; বরং আঞ্চলিক পর্যটন সংযোগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, গন্তব্য বিপণন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও ‘পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত, পর্যটন সংগঠন, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় ATF ধারাবাহিকভাবে ১৩তম আসরে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, “পর্যটন বিকশিত হয় অংশীদারত্ব, সংযোগ, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। টেকসই পর্যটন উন্নয়নের জন্য তাই সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স, হোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল হল, ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ হল এবং ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট হল। বিশেষ করে ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট হলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, প্রকল্প ও অংশীদারত্বের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলায় বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। দেশীয় পর্যটনের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার পাশাপাশি ঢাকা ডিনার ক্রুজসহ বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। মেলার প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। একটি টিকিটের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা মেলার তিনটি হল পরিদর্শন করতে পারবেন।
এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্লাটিনাম পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, কো-স্পন্সর ছুটি গ্রুপ, হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান, ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার ভাইয়া হোটেলস এবং অ্যাগ্রো ট্যুরিজম পার্টনার সুখের খামার।
এছাড়া কনভয় সার্ভিস ট্রান্সপোর্ট পার্টনার, M360 আইসিটি পার্টনার, দ্য ট্রাভেল বাউন্ড অফিসিয়াল পাবলিকেশন, ঢাকা ডিনার ক্রুজ ক্রুজ পার্টনার এবং NRB Vistara Limited অফিসিয়াল ট্রাভেল পার্টনার হিসেবে মেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং দেশের পর্যটন শিল্পের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

