বাংলা সাহিত্যের আকাশে যিনি এসেছিলেন ধুমকেতুর মতো। তিমির হননের গান গেয়ে জাগিয়েছিলেন ঘুমন্ত জাতিকে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার যে গান তিনি গেয়েছিলেন, তা আজও প্রতিটি নিপীড়িত মানুষের প্রাণশক্তি। আজ সাম্য, দ্রোহ ও প্রলয়োল্লাসের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক।যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত।
নজরুলের গান আর কবিতা যেন একই সূত্রে গাঁথা। রাগপ্রধান গান থেকে শুরু করে ভজন, গজল কিংবা শ্যামাসংগীত—বাংলা সংগীতের প্রতিটি শাখায় তিনি রেখে গেছেন অনন্য স্বাক্ষর।প্রথম ইসলামিক গান রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ এর মাধ্যমে তিনি ঈদের আনন্দকে সুরে বেঁধেছেন।
সাম্য ও মানবিকতার কবি নজরুল ধর্মীয় ভেদাভেদ আর কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানুষের জয়গান। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে:
গাহী সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নজরুলের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল মাত্র ২৩ বছর হলেও মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মননের জাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার সাম্যের কবি, গানের বুলবুল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধা।

