রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া ডোম যতীন রায় নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাঁর মেয়ে পার্থী চক্রবর্তীর শরীর থেকে ‘বীর্য’ পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন,‘কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ডোম যতীন রায় বলেন, ‘ডাক্তার বলছে, দেখ তো আছে কি না, দেখলাম বীর্য বেরোচ্ছে। তারপর বলে ওইটা রাখি দাও। ওইটা রাখি দিলাম। ডাক্তারে ওপর তো আমি কিছু বলতে পারব না। “বীর্য” যখন বেরিয়েছে, ডাক্তার বলল এটা ভ্যাজাইনা সোয়াব, বের করে নাও। আমি বের করি নিছি। মেয়েটার বীর্য বের হইছে, বীর্যটা রাখছি আমি। মেয়ের মাকে দেখছি, ওটারও একটু সোয়াব বের হইছে।’
এ বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ছিল। ধর্ষণ কি না, স্পার্ম আছে কি না? সোয়াবটাকে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা আলামত সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। সেটার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেখানে কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।’
গত শনিবার গভীর রাতে নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর পুলিশেল গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, ‘কালকের মধ্যে ভালো কিছু পাবেন।’
এদিকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জিলা স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

