LogoHormuzan

নেপাল-তিব্বতে নিহত ৬৩৩

নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ থাকার খবর জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

২৯ আগস্ট, ২০২৬3 views
নেপাল-তিব্বতে নিহত ৬৩৩
Daily Muktimarg

নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ থাকার খবর জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এর বরাত দিয়ে নেপালের এ সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, শনিবার সকাল ১০টায় প্রকাশিত কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়, ৪ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ১০১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৭ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

তার আগে সকাল ৬টা পর্যন্ত পুলিশ ৬১৬টি মরদেহ উদ্ধার করেছিল। এর মধ্যে চিতওয়ানে ২৩৩টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি, গোর্খায় ৪৮টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হালনাগাদ জাতীয় হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়ায়।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধার এবং বন্যায় আটকে পড়াদের সহায়তায় পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বন্যার আবর্জনা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং ত্রাণ কার্যক্রম সহজ করার চেষ্টা চলছে।

বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়।

পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীর তীরবর্তী জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে সেই পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।

বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরে ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়।

কাঠমন্ডু পোস্ট লিখেছে, কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো চেষ্টা করছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে রয়টার্স লিখেছে, নেপালের যেসব বিশেষায়িত ও কারিগরি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই, সেসব ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই, রয়টার্সকে বলেছেন তিনি।

কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে সহায়তার অনুমতি দিতে নেপাল সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা, মরদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে নেপালের বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন।